Featured

বুদ্ধের চোখে প্রকৃত ব্রাহ্মণ কে?

ব্রাহ্মণ উপাধীধারী অনেক ব্যক্তিরা প্রাচীনকাল থেকেই ধর্মের দোহাই দিয়ে নিজেদের আখের ঘুচিয়ে নিত। তাদের তৈরি করা ভ্রষ্ট জাতিভেদের কবলে পড়ে দীর্ঘকাল ভারতবর্ষের অন্তরাত্মা আর্তচিৎকার করেছিল। কিন্তু এরাই কি ছিল প্রকৃত ব্রাহ্মণ? এরা কি আসলেই ব্রাহ্মণ উপাধীর যোগ্য? এই প্রশ্নগুলো হাজার হাজার বছর ধরেই ভারতবর্ষের চিত্তকে অস্থির করে তুলেছিল এবং এখনো অস্থির করে চলেছে। প্রকৃত ব্রাহ্মণের প্রকৃত স্বরূপ ঠিক কি তা একসময় মহাত্মা বুদ্ধ ব্যক্ত করেছিলেন। এই বিষয়ে তার বক্তব্যগুলো ধম্মপদ নামক গ্রন্থের ব্রাহ্মণবর্গে পাওয়া যায়। ব্রাহ্মণ বর্গ থেকে প্রকৃত ব্রাহ্মণের স্বরূপ সবার জন্য তুলে ধরা হচ্ছেঃ

Continue reading “বুদ্ধের চোখে প্রকৃত ব্রাহ্মণ কে?”
Featured

ঋগ্বেদে বর্ণব্যবস্থা

হিন্দু ধর্ম এবং সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান হল বর্ণব্যবস্থা। এই বর্ণব্যবস্থার স্বরূপ সবসময় একরকম ছিল না আর এই ব্যবস্থা রাতারাতিও গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন ধর্মীয় সাহিত্য পর্যালোচনার মাধ্যমে বর্ণব্যবস্থার স্বরূপ এবং বিবর্তন সহজেই বোঝা সম্ভব। ঋগ্বেদ যেহেতু হিন্দুদের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ এবং ভারতবর্ষের প্রাচীণতম সাহিত্য তাই বর্ণ ব্যবস্থার আদিম রূপ জানার জন্য ঋগ্বেদের পর্যালোচনার কোনো বিকল্প নেই। ঋগ্বেদের শুরুর দিক থেকে দস্যুদের সাথে আর্যদের বিরোধের কথা পাওয়া যায়। তখনো বর্ণব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি; জাতি দুটি, দস্যু এবং আর্য।

ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার

ঋগ্বেদে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় শব্দগুলো অনেকবার ব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু পুরুষসুক্ত ছাড়া এই শব্দগুলো বর্ণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়নি। ঋগ্বেদের ৭ম মণ্ডলের ৬৪ সুক্তের ২য় ঋকে মিত্র এবং বরুণকে ক্ষত্রিয় বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, “তোমরা রাজা, মহাযজ্ঞের রক্ষক, সিন্ধুপতি ও ক্ষত্রিয় । তোমরা আমাদের অভিমুখে আগমন কর। হে ক্ষিপ্রদানশীল মিত্র ও বরুণ। আমাদের অন্ন ও বৃষ্টি অন্তরীক্ষ হইতে প্রেরণ কর।” এই অংশ সম্বন্ধে অনুবাদক রমেশচন্দ্র দত্ত তার টীকায় লিখেছেন, “মূলে ক্ষত্রিয়া আছে, ক্ষত্রিয় অর্থ বলবান। ক্ষত্রিয় নামে একটি বিভিন্ন জাতি তখন সৃষ্টি হয় নাই। মিত্র ও বরুণ ক্ষত্রিয় জাতীয় নহেন।”

Continue reading “ঋগ্বেদে বর্ণব্যবস্থা”
Featured

আমি কেন নাস্তিক- ভগৎ সিং

আমি ভগত সিং বলছি। এক ধার্মিক পরিবারে আমার জন্ম হয়েছিল। ঠাকুরদা আর্যসমাজী ছিলেন। বাবাও আস্তিক ছিলেন, যদিও তিনি ধর্মীয় দিক থেকে সহিষ্ণু ছিলেন। ছোটোবেলায় আমাকে দয়ানন্দ আর্য বৈদিক স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানে প্রতিদিন ভোরবেলা ও সন্ধ্যায় ঘন্টার পর ঘন্টা মন্ত্রপাঠ করা হত। আমি তখন আস্তিক ছিলাম। কিন্তু এই আমিই যখন একদিন নাস্তিক হলাম, তখন বলা হল, কেবলমাত্র দম্ভের বশবর্তী হয়েই নাকি আমি ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করছি। আমি কোনো সর্ব শক্তিমান,  সর্বত্র বিরাজমান, সর্বজ্ঞ ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করিনা। আমার বন্ধুরা বলেন, আমি কেবলই আমার অহংকারের কারণেই নাকি, ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করছি। আমি কেবল দম্ভের কারণে ঈশ্বরকে অস্বীকার করিনি ।আমার নাস্তিকতা আমার দম্ভের ফলশ্রুতি নয় বরং তা তার গভীর চিন্তা ভাবনার ফলশ্রুতি। ন্যাশনাল কলেজে যখন আমি ভর্তি হই, তখন ধর্মীয় বিষয়ে চিন্তাভাবনার ফলে, আমার মনে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্বন্ধে প্রথম সন্দেহ জাগে। তারপরেও, ঈশ্বরের প্রতি তখনও আমার, জোরালো আস্থা ছিল।  তখনও শিখ ধর্মের বিধান অনুযায়ী দাড়ি এবং কেশ রাখতাম কিন্তু শিখ বা অন্য কোনো ধর্মের কোনো উপযোগীতা আছে বলে মনে হত না। এরপর, যখন বিপ্লবীদের সাথে যুক্ত হলাম, তখন প্রথম দিককার প্রায় সব নেতারাই, গোঁড়া ধর্ম বিশ্বাসী ছিল। এরপর যখন বিপ্লবের দায়িত্ব আমার কাধে এল তখন পড়াশোনার নেশা আমায় পেয়ে বসলো। যখন পড়াশোনা করতে লাগলাম তখন আমার পুরাতন বিশ্বাস আমূল বদলে গেল। আমি বাস্তববাদী হলেন। নৈরাজ্যবাদী বাকুনিনের লেখা, কমিউনিজমের জনক কার্ল মার্ক্স, লেনিন, ট্রটস্কি প্রভৃতি ব্যক্তিদের লেখা পড়লাম। অনেক পড়াশোনা করার পর,  ১৯২৬ সালের শেষের দিকে আমি নিশ্চিত হলাম যে, কোনো সর্বশক্তিমান মহান সত্তা যে এই মহাবিশ্বকে বানিয়েছেন আর তার নিয়ন্ত্রন করছেন এই তত্ত্বের  জোরালো কোনো ভিত্তি নেই।বন্ধুদের সাথে এই বিষয়ে অনেক আলোচনা করলাম। তখন নিজেকে খোলাখুলিভাবে নাস্তিক বলে ঘোষণা করলাম।

Continue reading “আমি কেন নাস্তিক- ভগৎ সিং”
Featured

দয়ানন্দ সরস্বতীর মুখ ও মুখোশ

দয়ানন্দ সরস্বতী ছিলেন আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে তার শিষ্যদের অনলাইনে জাতিভেদের বিরোধীতায় বেশ সোচ্চার দেখা যায়। তারা দাবী করেন যে তারা জন্মের বদলে কর্মগুণে বর্ণপ্রথায় বিশ্বাসী। এছাড়া তাদের আর্যসমাজ নারীদের প্রতি ভীষণ ভালো মনোভাব পোষণ করেন, তারা বৈজ্ঞানিক চিন্তা চেতনা ধারণ করেন, এই ধরণের দাবী করা হয়ে থাকে। এসব যদি পুরোপুরি সত্য হত তাহলে নির্দ্বিধায় বলতাম ভালো, ভীষণ ভালো। কিন্তু যা প্রচার করা হচ্ছে তা সর্বাংশে সত্য বলে মানা যায় না।

Continue reading “দয়ানন্দ সরস্বতীর মুখ ও মুখোশ”
Featured

অশ্বমেধ যজ্ঞে পশুহত্যা এবং রাণীদের অশ্বসঙ্গম

প্রাচীন ভারতে অশ্বমেধ যজ্ঞ বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রাচীনকালের এই যজ্ঞে যেসব কর্মকাণ্ড হত সেসব যদি আমরা দেখতাম তাহলে নিশ্চিতভাবেই আমাদের চোখ কপালে উঠে যেত! এই যজ্ঞে ঘোড়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর রাজার প্রথম স্ত্রী ‘মহিষী’ মৃত ঘোড়ার সাথে পশুকামে লিপ্ত হতেন। এই যজ্ঞে শুধু অশ্ব নয় আরো অনেক প্রাণীকে হত্যা করা হত। নানান প্রাচীন গ্রন্থে এই ঘটনাগুলোর বিবরণ মেলে। প্রাচীন গ্রন্থগুলো অশ্বমেধ যজ্ঞে পশুহত্যা এবং পশুকামের ব্যাপারে ঠিক কি বলছে তা নিচে উল্লেখ করা হচ্ছে।

Continue reading “অশ্বমেধ যজ্ঞে পশুহত্যা এবং রাণীদের অশ্বসঙ্গম”
Featured

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও সমাজ সংস্কার আন্দোলন

‘বিধাতা সাতকোটি বাঙ্গালী সৃষ্টি করতে করতে একটি মানুষ সৃষ্টি করেছিলেন’। বিদ্যাসাগর সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমনই মন্তব্য করেছিলেন। ভারতবর্ষে এই লোকটির আবির্ভাব না হলে ভারতবর্ষ আরো কয়েক হাজার বছর  পিছিয়ে থাকত। পরাধীনতার পাশাপাশি ভারত তখন কুসংস্কার, কুপ্রথার শেকলে আবদ্ধ। সেই অভাগা দেশে জন্মে শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজ সংস্কারে অমূল্য অবদান রেখেছিলেন বিদ্যাসাগর।  এই প্রবন্ধটিতে আপনাদের জানাতে চলেছি ভারতবর্ষের গর্ব বিদ্যাসাগর সম্পর্কে।

Continue reading “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও সমাজ সংস্কার আন্দোলন”
Featured

আপনার জীবন বদলে দেবে গৌতম বুদ্ধের এই উপদেশ

পৃথিবীতে যুগে যুগে অনেক মহামানবেরা অবতীর্ণ হয়েছেন। তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষকে, মানবসমাজকে আলোর পথ দেখিয়ে গেছেন। গৌতম বুদ্ধ, সেই শ্রেষ্ঠ মহামানবদের মধ্যে একজন। তিনি হাজার হাজার বছর আগেও এমন অনেক উপদেশ দিয়ে গেছেন, যেগুলো আজকের দিনেও সমান প্রাসঙ্গিক। আজ আমরা গৌতম বুদ্ধের কালজয়ী কিছু উপদেশ সবার সামনে তুলে ধরবো। আশা করছি, আপনাদের তা ভালো লাগবে।

Continue reading “আপনার জীবন বদলে দেবে গৌতম বুদ্ধের এই উপদেশ”
Featured

হিন্দু ধর্মে বর্ণ পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত (অথেন্টিক তথ্য প্রমাণ সহ)

বর্ণ প্রথাকে হিন্দু ধর্মের  অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। হাজার হাজার বছর ধরে বর্ণপ্রথার নামে, জাতপাতের নামে মানুষের উপর অত্যাচার করা হয়েছে; এই সত্যটি অনস্বীকার্য। একটা সময় ছিল যখন কোনো বর্ণ বা জাতিতে জন্মগ্রহণ করা ব্যক্তির কর্মের স্বাধীনতা ছিল না, সে তার অনিচ্ছাসত্ত্বেও  বংশগত কর্ম করতেই বাধ্য হত। কিন্তু সবসময় কি এই অবস্থাই ছিল?

Continue reading “হিন্দু ধর্মে বর্ণ পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত (অথেন্টিক তথ্য প্রমাণ সহ)”
Featured

বাল্মীকি রামায়ণে পশুহত্যা এবং মাংসভক্ষণ

বিভিন্ন প্রাচীন সাহিত্য পড়লে বোঝা যায়, প্রাচীনভারতে মাংসভক্ষণ সুপ্রচলিত ছিল। বর্তমানেও সমগ্র পৃথিবী জুড়ে মাংসাহারীদের দেখা যায়। মানুষেরা আদিম কাল থেকেই শিকারের মাধ্যমে অথবা পশুপালনের মাধ্যমে পাওয়া মাংস ভক্ষণ করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। সুতরাং মানব ইতিহাসের সুদুর অতীতে মাংসভক্ষণ যে ভীষণভাবে প্রচলিত ছিল তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকে না। কিন্তু হিন্দুদের মধ্যে এমন অনেক সম্প্রদায় আছে যারা মাংসভক্ষণকে গর্হিত বলে মনে করে। তারা মনে করে হিন্দুশাস্ত্রের কোথাও মাংসভক্ষণের কথা নেই। কিন্তু প্রচুর হিন্দুশাস্ত্র হতে মাংসভক্ষণের ভুরি ভুরি প্রমাণ পাওয়া যায়। নানা গ্রন্থে মাংসাহার ও পশুহত্যার কথা থাকলেও বর্তমান লেখাটিতে কেবলমাত্র বাল্মীকি রামায়ণে উল্লেখিত পশুহত্যা এবং মাংসাহারের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

Continue reading “বাল্মীকি রামায়ণে পশুহত্যা এবং মাংসভক্ষণ”
Featured

বর্ণভেদ বিরোধী হিন্দু ধর্ম

স্বার্থান্বেষী নিষ্ঠুর মানুষেরা জাতপাতের বিভেদ সৃষ্টি করে যুগের পর যুগ মানুষকে বঞ্চিত করে রেখেছিল ভারতবর্ষে। এরা সাধারণ মানুষকে শোষণের জন্য নানা ধরণের কঠোর বিধিবিধান তৈরি করেছিল। কিন্তু এদের বিপরীতে কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষও হিন্দু সমাজে দেখা গিয়েছিল। তারা জাতপাতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। হিন্দু ধর্মের জাতিভেদ সম্পর্কে আমি পূর্বে অনেক প্রবন্ধ লিখেছি, এই প্রবন্ধে হিন্দু ধর্মের জাতিভেদবিরোধী দৃষ্টান্তগুলোর উল্লেখ করা হচ্ছে।

Continue reading “বর্ণভেদ বিরোধী হিন্দু ধর্ম”
Featured

হিন্দু ধর্মে গোবর ভক্ষণ ও গোমূত্র পানের বিধান

বর্তমান যুগে এমন অনেক হিন্দুকে দেখা যায় যারা গোবর এবং গোমূত্র খাওয়ার পক্ষপাতী। তারা গোবর এবং গোমূত্রের অনেক উপকারীতার কথা বলে থাকেন। কিন্তু যারা শিক্ষিত হিন্দু আছেন তারা এসবকে নেহাতই কুসংস্কার বলে মনে করেন! কিন্তু তারা কি জানেন অনেক প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে গোবর এবং গোমূত্রের মহিমা বর্ণিত হয়েছে!?

হিন্দু শাস্ত্রের নানা স্থানে গোবর এবং গোমূত্র ভক্ষণের বিধান মেলে। হিন্দু শাস্ত্রের কোন কোন স্থলে এমন বিধান রয়েছে তা এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।

Continue reading “হিন্দু ধর্মে গোবর ভক্ষণ ও গোমূত্র পানের বিধান”
Featured

এই রাধা আসিলেন যেথা হইতে

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমের ধারণা ছিল ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ আর জয়দেবের গীতগোবিন্দেই প্রথম রাধার উল্লেখ পাওয়া যায়।  হিন্দু শাস্ত্রে রাধার উল্লেখ নিতান্ত নগন্য বিবেচনা করে অনেকে জিজ্ঞেস করে থাকেন, “ এই রাধা আসিলেন কোথা হইতে?” হিন্দুশাস্ত্রে যে রাধার উল্লেখ তেমন পাওয়া যায় না, এই ধারণা ভীষণ রকম  ভ্রান্ত। হিন্দুশাস্ত্রের কোন কোন স্থলে রাধার উল্লেখ আছে তাহলে তা জানানো যাক।

Continue reading “এই রাধা আসিলেন যেথা হইতে”
Featured

অশ্বমেধ যজ্ঞঃ হিংসা আর অশ্লীলতার তাণ্ডব নৃত্য

[ অশ্বমেধ যজ্ঞ বিষয়ক এই লেখাটি ১৮+। কমবয়সীরা এটা পড়বেন না। এখানে এমন অনেক তথ্য পাওয়া যাবে যা বর্তমান সময়ের মানুষদের কাছে অশ্লীল এবং নিন্দনীয় বলে মনে হতে পারে। অনেকে একে চটিসাহিত্যের সাথেও তুলনা করতে পারেন। কিন্তু হিন্দু ধর্মের ইতিহাসের সাথে এ বিষয় সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে লেখাটির অনুবাদ করলাম।]

ধর্মের ধান্দাবাজেরা ভোলাভালা মানুষদের পকেট সাফ করার জন্য, নেতাগিরি কে চমকানোর জন্য আবারো যজ্ঞকে অস্ত্ররূপে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। যজ্ঞের ‘এই’ অথবা ‘ওই’ নাম রেখে ধর্মভীরু মানুষদের আকৃষ্ট করার জন্য বড় বড় আড়ম্বর করা হচ্ছে।

কয়েক বছর আগে ভোপালে অনেক বড় এক যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। এটাও প্রচার করা হয়েছিল যে এই যজ্ঞ ২৫০০ বছর পর করা হচ্ছে যাতে লোকজন উলটানো ক্ষুরে নিজেদের ন্যাড়া করার জন্য বেশি সংখ্যায় উপস্থিত হয়।

গ্যাস ছড়ানোর কারণে ভোপালে দূষিত হওয়া বায়ুমণ্ডলকে শুদ্ধ করা এই যজ্ঞের উদ্দেশ্য , এমন বলা হয়েছিল। কিন্তু যজ্ঞ করার পাঁচ-ছয় মাস আগে গ্যাস ছড়িয়েছিল এবং  যজ্ঞ করার সময় বায়ুতে দূষিত গ্যাস লেশমাত্রও অবশিষ্ট ছিল না।  

এভাবেই হায়দ্রাবাদে বিশ্বশান্তির জন্য অশ্বমেধ যজ্ঞ করা হয়েছিল। ধর্মের ধান্দাবাজেরা ধর্মের নামে কিভাবে মানুষকে বোকা বানায় তার অনুমান এই এক কথায় করা যায় যে ,  অশ্বমেধ যজ্ঞের অনুষ্ঠানে না শান্তি আছে, না এর উদ্দেশ্য কখনো শান্তি স্থাপন করা ছিল।

Continue reading “অশ্বমেধ যজ্ঞঃ হিংসা আর অশ্লীলতার তাণ্ডব নৃত্য”
Featured

রাম মর্যাদা পুরুষোত্তম? আরেকবার ভাবুন!

রামচন্দ্র, এই নামটি হিন্দু সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তা কোনো হালআমলের ব্যাপারও নয়, হাজার হাজার বছর ধরেই রামকে ঘিরে অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রচিত হয়েছে, গড়ে উঠেছে অসংখ্য সম্প্রদায়। কিন্তু বর্তমানে রাম ধর্ম থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। রাম নিয়ে ভারতের রাজনীতি বেশ সরগরম। এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাতই কম নয় যারা রামকে ‘মর্যাদা পুরুষোত্তম’ বলে মনে করেন। অসংখ্য লোক আবার রীতিমত ‘রামরাজ্যের’ দাবী করে বসেছেন। তাদের কাছে ‘রাজরাজ্যই’ হল আদর্শ রাষ্ট্রের স্বরূপ। তাই তারা রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। ভারতে যদি কোনো সময় রামরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তাতে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্ঠান, পারসী, নাস্তিক ইত্যাদি সম্প্রদায়ভুক্ত সকল ভারতবাসীরই বাস করতে হবে। তাই রাম সত্য হোক বা নেহাতই ‘কবির কল্পনা’  রাম নামক চরিত্রটি আসলে কি ধরণের চরিত্র তা আমাদের বোঝার দরকার পড়ে। রামরাজ্য ঠিক  কেমন  হতে পারে তাও বিবেচনার দরকার পড়ে। 

Continue reading “রাম মর্যাদা পুরুষোত্তম? আরেকবার ভাবুন!”
Featured

রামায়ণে জাতিভেদ

রামায়ণ ও মহাভারত হিন্দুদের দুটি বিখ্যাত মহাকাব্য। শুধু মহাকাব্য নয় ধর্মগ্রন্থ হিসেবেও হিন্দুসমাজে এর যথেষ্ট সমাদর আছে। কিন্তু এই দুটি গ্রন্থেই  ভীষণভাবে জাতিভেদের প্রভাব বিদ্যমান। রামায়ণের উত্তরকাণ্ডে তপস্যা করার অপরাধে রাম শম্বুক নামে এক শূদ্রকে হত্যা করেন। রামের এই কুকীর্তি এখন অনেকেই জানেন। শম্বুক হত্যা হিন্দু সমাজের বর্ণবাদী রূপটিকে নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। কিন্তু পূর্বপুরুষের অপকর্ম ঢাকার জন্য এবং হিন্দু সমাজের এই কলঙ্কটিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অনেকেই রামায়ণের উত্তরকাণ্ডকে বারবার প্রক্ষিপ্ত বলেন; তারা রামায়ণের জাতিবাদী রূপটিকে আড়াল করতে চান। কিন্তু শুধুমাত্র উত্তরকাণ্ডে যে এসব জাতপাত রয়েছে তা কিন্তু নয়, রামায়ণের অনেকস্থানেই  এই বর্ণবাদ তার কালো থাবা  ফেলেছে । এই লেখাটিতে রামায়ণের নানাস্থান হতে বর্ণ এবং জাতপাত সম্বন্ধে যা জানা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

Continue reading “রামায়ণে জাতিভেদ”
Featured

হিন্দু ধর্ম ও গোমাংসরহস্যঃ বেদ

‘গোমাংস’ শব্দটি শুনলেই আজকাল অধিকাংশ হিন্দুরা আঁতকে ওঠেন। গোমাংস তাদের কাছে নিষিদ্ধ এক বস্তু। তাই গোমাংস খাওয়ার অপরাধে ভারতে হয়ে চলেছে হত্যা, নির্যাতন। গরু নিয়ে ভারতের রাজনীতি এখন সরগরম। গো রক্ষার জন্যে গঠিত হয়েছে নানান দল। ভাগ্যচক্রে পশু গরু এখন হয়ে উঠেছেন গোমাতা!

কিন্তু ইতিহাস বলে হিন্দুরা আগে গোমাংস খেত। তাহলে কেন তারা গোমাংস খাওয়া বন্ধ করলো? কিভাবে হিন্দুদের গোমাংসের জোগান দেওয়া আদিম গরু আজকের গোমাতা হয়ে উঠলো?

এ সবই বিস্ময়কর রহস্যে আবৃত। সেই রহস্য ভেদ করা দুরূহ, দুঃসাধ্য। তবুও সেই রহস্যের যবনিকা সরানোর অদম্য ইচ্ছাতেই এই লেখাটি লিখছি।

Continue reading “হিন্দু ধর্ম ও গোমাংসরহস্যঃ বেদ”
Featured

বর্ণব্যবস্থা সম্পর্কিত গীতার বিভিন্ন শ্লোকের বিবিধ ভাষ্য

অধর্ম্মাভিভবাৎ কৃষ্ণ প্রদুষ্যন্তি কুলস্ত্রিয়ঃ।

স্ত্রীষু দুষ্টাসু বার্ষ্ণেয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ।।গীতা  ১/৪০

সরলার্থঃ হে কৃষ্ণ, অধর্মের দ্বারা অভিভূত হইলে কুললক্ষীগণ দুষ্টা হয়। হে বার্ষ্ণেয়, কুলস্ত্রীগণ দুষ্টা হইলে বর্ণসঙ্কর উৎপন্ন হয়।

Continue reading “বর্ণব্যবস্থা সম্পর্কিত গীতার বিভিন্ন শ্লোকের বিবিধ ভাষ্য”
Featured

রাম নিরপরাধ শূদ্র শম্বুককে হত্যা করেছেন, এতে আপনি অবাক কেন হচ্ছেন?

বাল্মীকি  রামায়ণের উত্তরকাণ্ডে দেখা যায়, বিষ্ণুর অবতার রামচন্দ্র তপস্যা করার অপরাধে শম্বুক নামক এক শূদ্র তপস্বীকে হত্যা করেন। (রামের শম্বুক হত্যার ঘটনাটি বিস্তারিত পড়ুন এখান থেকে)। রামায়ণে এই ঘটনাটি বর্ণিত হওয়া সত্ত্বেও রামের পক্ষ অবলম্বন করে অনেকে বলে থাকেন, রামের মত একটি চরিত্রের দ্বারা কখনোই শম্বুক বধ সম্ভব নয় অথবা রাম শম্বুক বধ করেননি। এর স্বপক্ষে তারা বেশ কিছু যুক্তি দিয়ে থাকেন। কলকাতা 24*7 নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে এই ধরণের যুক্তি সমন্বিত একটি লেখা চোখে পড়ল (সেই লেখাটির লিংক) । তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

Continue reading “রাম নিরপরাধ শূদ্র শম্বুককে হত্যা করেছেন, এতে আপনি অবাক কেন হচ্ছেন?”
Featured

মহাভারতে জাতিভেদঃ ব্রাহ্মণ

কথিত আছে,  ‘যাহা নাই ভারতে তাহা নাই ভারতে’। অর্থাৎ, মহাভারতে যা নেই পুরো ভারতবর্ষেও তা নেই। তৎকালীন ভারতের বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায়ের আচার-অনুষ্ঠানের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে মহাভারতে। রাজনীতি, ধর্মনীতি, দর্শন, ইতিহাস সবই রয়েছে এই মহাগ্রন্থে।

যদি সবই এই গ্রন্থে থেকে থাকে তাহলে ভারতের হৃদয়ে যে জাতিভেদের শেল বিদ্ধ হয়েছে, যা হাজার বছর ধরে ভারতকে পীড়ন করে চলেছে, তার সম্বন্ধে সুদীর্ঘকালের ইতিহাসধারণকারী মহাভারতে কি কিছুই নেই?

না, আছে। মহাভারতে স্থানে স্থানে জাতপাতের সাক্ষ্য মেলে। মহাভারতের বিভিন্ন চরিত্রের আচরণে বারংবার যেমন জাতিবাদী মানসিকতা ফুটে উঠেছে, তেমনি অনেক চরিত্র বিষম জাতিভেদের শিকার হয়েছে। এতে ব্রাহ্মণের মহিমা স্থানে স্থানে কীর্তিত হয়েছে। কখনো বা ক্ষত্রিয়রা ব্রাহ্মণদের শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করেছে, কখনোবা ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়েরা পরস্পর সন্ধিতে আবদ্ধ হয়েছে। মহাভারতে কঠোর জাতিভেদের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা রয়েছে। মহাভারতে অধিকাংশেরা যখন জাত পাত নিয়ে গোঁড়া মানসিকতা পোষণ করেছে, তখন অনেক উদারপন্থীরা জাতিভেদকে অস্বীকার করেছেন। বর্ণপ্রথার প্রতি যারা উদার মনোভাব পোষণ করেছেন, তাদের মনোভাব আখেরে সমাজে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবুও তাদের সেই উদারতা তুচ্ছ নয়। তাই মহাভারতের জাতিভেদ বিষয়টির সামগ্রিক আলোচনা হওয়া উচিত বলে মনে করি, আর এই জন্যই ‘মহাভারতে জাতিভেদ’ নামক সিরিজটির সূত্রপাত করা।

তবে সঙ্গত কারণেই অনেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, এর প্রয়োজন কি? এ তো অতীত! অতীতের গর্ত খুড়ে বিষধর সর্পকে বের করে আনা কেন?

এর উত্তরে প্রথমেই বলতে হয় জাতপাত যদি সত্যই সমাজ থেকে নিঃশেষ হয়ে যেত তাহলে এর চেয়ে খুশির অন্য কোনো কথা হত না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ভারতবর্ষের অনেক স্থানে এখনো জাতপাত ভীষণভাবে বিদ্যমান। আপনার আমার চারপাশে জাতপাতের মধ্যযুগীয় বর্বরতা তেমন দেখা না গেলেও বিয়ে সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মানুষেরা এখনো জাতপাতই মেনে চলে।

এছাড়া ধর্মগ্রন্থ হিসাবে হিন্দুদের মাঝে গীতা এতটাই জনপ্রিয় যে একে বর্তমানে হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বলা যায়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু হবার আগে কৃষ্ণ অর্জুনকে ধর্ম, দর্শন সম্বন্ধে যে উপদেশ দিয়েছিলেন তাই গীতা নামে খ্যাত। অনেক পণ্ডিতেরা গীতাকে মহাভারতে প্রক্ষিপ্ত অর্থাৎ পরবর্তীকালে সংযোজিত অংশ বলে মনে করেন। তারা তাদের মতের স্বপক্ষে নানা তথ্য এবং যুক্তি পেশ করে থাকেন। কিন্তু অধিকাংশ ধর্মপরায়ণ হিন্দুই গীতাকে মহাভারতে প্রক্ষিপ্ত বলে মানবেন না। তারা একে মহাভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী ভাবতেই ভালোবাসবেন। তাই গীতাকে বুঝতে গেলে, এর আলোচনা-সমালোচনা করতে গেলে একে মহাভারতের আঙ্গিকে দেখবার প্রয়োজন আছে। গীতার বর্ণব্যবস্থা বুঝতে হলে মহাভারতের বর্ণব্যবস্থাকে বোঝবার দরকার আছে।

এছাড়া ইতিহাস কখনো অপ্রাসঙ্গিক হয়না। ইতিহাসই মানুষের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। অতীতের ভালো মন্দ ঘটনা থেকে আমরা ভালো মন্দের শিক্ষা পেয়ে থাকি। ইতিহাস অপ্রাসঙ্গিক নয় বলেই আমরা সকলে ইতিহাস পাঠ করে থাকি।

যাইহোক, বিভিন্ন কারণেই ‘মহাভারতে জাতিভেদ’ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।  

Continue reading “মহাভারতে জাতিভেদঃ ব্রাহ্মণ”
Featured

চার্বাক-ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ?

চার্বাক। এই নামটি অনেকেই শুনে থাকবেন। এটি হল প্রাচীন ভারতের এক নাস্তিক্যবাদী দর্শন। এর অন্য নাম লোকায়ত দর্শন। চার্বাকেরা ঈশ্বর, দেহাতিরিক্ত আত্মা, জন্মান্তর, স্বর্গ, নরক, মোক্ষ ইত্যাদির কিছুই মানতেন না। চার্বাক এর নাম শোনামাত্রই একটি শ্লোক সবার মনে উঁকি দেয়-  

যাবজ্ জীবেৎ সুখং জীবেদ্ ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ।

ভস্মীভূতস্য দেহস্য পুনরাগমং কুতঃ।।  

অর্থাৎ, যতদিন বাঁচবে, সুখে বাঁচবে; ধার করে ঘি খাবে। ছাই হয়ে যাওয়া দেহ কোথায় (বা কোথা থেকে) আবার ফিরে আসে?

[ উৎসঃ সায়ন-মাধব এর সর্ব দর্শন সংগ্রহ]

Continue reading “চার্বাক-ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ?”
Featured

ঈশ্বরের ধর্মবিশ্বাস

ঈশ্বর সব কিছু সৃষ্টি করেছেন বলে শোনা যায়, কিন্তু তাকে নাকি কেউ সৃষ্টি করেন নি অর্থাৎ তিনি নাস্তিক। এই ঈশ্বর অলৌকিক সত্ত্বা। তিনি আমাদের কাছে গুরুত্বহীন। ওনার চেয়ে  আমাদের কাছে ঢের গুরুত্বপূর্ণ পৃথিবীর ঈশ্বর, মানে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, যিনি সমাজ সংস্কারক হিসাবে ভারতবাসীর অন্তরে অমর হয়ে আছেন । দেশের অশিক্ষা-কুসংস্কারের তিমিরে আলোকশিখা হয়ে এসেছিলেন তিনি। বিদ্যাসাগরের ধর্মবিশ্বাস ঠিক কি ছিল? জানা যায় তিনিও নাকি তথাকথিত সর্বশক্তিমানের মতই নাস্তিক ছিলেন!

Continue reading “ঈশ্বরের ধর্মবিশ্বাস”
Featured

বেদবিরোধী বুদ্ধকে কেন বিষ্ণুর অবতার বানানো হল?

গৌতম বুদ্ধ যিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক, হিন্দুরা তাকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবেও জানেন। [1] বিভিন্ন পুরাণে বুদ্ধকে বিষ্ণুর নবম অবতার বলা হয়েছে।

গরুড় পুরাণের প্রথম অধ্যায়ে বিষ্ণুর অবতার সমূহের বিবরণ দেওয়ার সময় একাদশ অবতার হিসেবে বুদ্ধের উল্লেখ করা হয়েছে-
“একবিংশতি অবতারে ভগবান কলিযুগের সন্ধ্যা প্রবৃত্ত হইলে দেবদ্বেষীদিগের মোহনারথ কীকটে (মগধ দেশে) জিনসুত বুদ্ধনামে আবির্ভূত হইবেন। কলিযুগের সন্ধ্যার অবসান কালে রাজবরগ নষ্টপ্রায় হইলে, জগৎপতি কল্কি নামে বিষ্ণুযশা নামক ব্রাহ্মণের ভবনে অবতীর্ণ হইবেন”। [2]

গরুড় পুরাণ/ উত্তরখন্ড / ৩০ অধ্যায়ে বলা আছে-
“মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, শ্রীরাম, পরশুরাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ ও কল্কি পন্ডিতগণ সর্বদা এই দশ নাম স্মরণ করিবেন”।

বৃহন্নারদীয় পুরাণের ২য় অধ্যায়ে বুদ্ধকে বিষ্ণুর অবতার বলা হয়েছে-
“…স্বীয় বুদ্ধিতে ভূম্যাদি ত্রিলোক এবং আত্মাকে বিলীন করিয়া অবস্থিত যে পুরুষকে যোগিগণ অবলোকন করেন, সেই বুদ্ধাবতারকে ভজনা করি।”

কিন্তু হিন্দুরা কি আসলেই জানেন বুদ্ধ অবতার সম্বন্ধে তাদের ধর্মগ্রন্থে কি বলা আছে? হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে অসুরদের বৈদিক ধর্ম হতে ভ্রষ্ট করতেই বিষ্ণু বুদ্ধ অবতার নিয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তন করেন। বৌদ্ধ ধর্মকে আসুরিক ধর্ম হিসাবে দেখানো হয়েছে। হিন্দু শাস্ত্র রচয়িতারা কেন এই কাজটি করেছিলেন তা জানার জন্য আমাদের খুঁজে দেখতে হবে অতীতে হিন্দুদের সাথে বৌদ্ধদের সম্পর্ক কেমন ছিল।এখন বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে যেমন বিদ্বেষ-সহিংসতা দেখা যায়, তেমনি অতীতেও হিন্দু ও বৌদ্ধদের মধ্যেও হিংসা-দ্বেষ ছিল।

Continue reading “বেদবিরোধী বুদ্ধকে কেন বিষ্ণুর অবতার বানানো হল?”
Featured

সতীর খোঁজেঃহিন্দু শাস্ত্রে সতীদাহ

সতী দিয়েছে তার জীবন সপে! মরণও দিয়েছে সপে!
সতীর বেদিতে,স্বর্গলোকেই সতীর ঠাই হয়।
পৃথিবী সতীর নয়,সতী মানুষ নয়।

প্রাচীনকালে সতীদাহ ‘সতীদাহ’ নামে পরিচিত ছিল না। একে ‘সহমরণ’, ‘সহগমন’, ‘অনুগমন’,’অনুমরণ’ ইত্যাদি বলা হত। স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর মৃতদেহের সাথে বিধবা পুড়ে মরলে তাকে সহমরণ বলা হত। স্বামী দূরদেশে মারা গেলে অথবা অন্য কোনো কারণে স্বামীর সাথে স্ত্রীকে একসাথে পোড়ানো না গেলে, স্বামীর পাগড়ী বা পাদুকার সাথে স্ত্রীকে পোড়ানো হলে তাকে অনুমরণ বলা হত। সহমৃতা নারীকে সতী বলা হত, কিন্তু এই প্রথাটির নাম প্রাচীনকালে সতী ছিল না। ইউরোপিয়ানরাই সহমরণ প্রথার ‘সতী’ নামকরণ করেন। এই সহমরণের প্রথাটি অনেক প্রাচীন। অনেক হিন্দু শাস্ত্রে সহমরণের দৃষ্টান্ত ও বিধান রয়েছে।

Continue reading “সতীর খোঁজেঃহিন্দু শাস্ত্রে সতীদাহ”
Featured

সীতা হওয়ার মূল্য কি? অগ্নিপরীক্ষা?আত্মহত্যা?

আজকাল ভারত রামরাজ্যের দাবীতে ভরে উঠেছে। বিশ্বাসীর চোখে রামরাজ্য ন্যায়-শান্তির রাজত্ব।রাম তাদের কাছে কাছে ভগবান। অন্ধভক্ত অবিবেচকের মত আজকের যুগে এসেও রামরাজ্য হয়তো চাইতে পারে কিন্তু রামায়ণ পড়া কোনো নারীর পক্ষে  রামের রাজত্ব চাওয়া সম্ভব নয়! রামরাজ্যের নাম শুনলেই তার আঁতকে ওঠার কথা। অন্তত অবতার শ্রী রামচন্দ্র তার স্ত্রী সীতার সাথে কি রকম আচরণ করেছিলেন সেটা জানার পর, সে রামরাজ্য চাইবে না নিশ্চিত। রামের ন্যায় স্বামীও যে চাইবে না এই বিষয়েও তেমন সন্দেহ নেই।

Continue reading “সীতা হওয়ার মূল্য কি? অগ্নিপরীক্ষা?আত্মহত্যা?”
Featured

আপনি কি জানেন ব্রাহ্মণই প্রকৃত দেবতা?মনুসংহিতা ও ব্রাহ্মণ্যবাদ

ব্রাহ্মণের উৎপত্তি

মানুষ ও জীবজগতের উদ্ভব সম্বন্ধে যদি বিবর্তন তত্ত্বের কথা শুনে থাকেন, তবে তা ভুলে যান। শুনুন, মনুস্মৃতিতে বর্ণিত মানবের উৎপত্তির কথা। একদিন সৃষ্টিকর্তা প্রজাপতি ব্রহ্মার মানব সৃজনের ইচ্ছা হলে  তিনি তার বিভিন্ন অঙ্গ থেকে ব্রাহ্মণ ,ক্ষত্রিয় , বৈশ্য ও শূদ্রকে সৃষ্টি করেন। একই প্রজাতির প্রাণীসৃষ্টির এমন অদ্ভুত কাহিনী অন্য কোনো ধর্মের উপকথায় আছে কিনা জানা নেই।

Continue reading “আপনি কি জানেন ব্রাহ্মণই প্রকৃত দেবতা?মনুসংহিতা ও ব্রাহ্মণ্যবাদ”
Featured

মনুর চোখে শূদ্ররা মানুষ নয়-হিন্দু ধর্মে শূদ্রের অবস্থান

মারাঠায় পেশোয়াদের শাসনকালে বিকাল ৩ টে থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত  অস্পৃশ্যদের পুনা শহরের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হত না, পাছে কোনো অস্পৃশ্যের অপবিত্র ছায়া  কোনো ব্রাহ্মণের ওপর গিয়ে পড়ে এবং তারাও অপবিত্র হয়ে যায়! প্রাচীর ঘেরা শহরের মধ্যে অচ্ছুৎদের থাকার অধিকার ছিল না। কুকুর এবং গবাদি পশুরা শহরের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে পারতো কিন্তু একজন অচ্ছুতের সেই শহরের ভেতরে ঢোকার অধিকার ছিল না। কোনো অচ্ছুৎ মাটিতে থুতু পর্যন্ত ফেলতে পারতো না, পাছে কোনো হিন্দুর পায়ে তার স্পর্শ হয়! তাই থুতু ফেলার জন্য তার গলায় একটা মটকা ঝুলিয়ে দেয়া হত। আর অচ্ছুৎদের কোমরে একটি করে ঝাড়ু বেধে রাখতে হত, যাতে তারা তাদের অপবিত্র পায়ের ছাপ মাটি থেকে মেটাতে মেটাতে চলে। কোনো ব্রাহ্মণ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের মাটিতে তাকে শুয়ে পড়তে হত, যাতে তার ছায়া সেই ব্রাহ্মণের ওপর না পড়ে।

মারাঠায় পেশোয়াদের শাসনকালে বিকাল ৩ টে থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত  অস্পৃশ্যদের পুনা শহরের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হত না, পাছে কোনো অস্পৃশ্যের অপবিত্র ছায়া  কোনো ব্রাহ্মণের ওপর গিয়ে পড়ে এবং তারাও অপবিত্র হয়ে যায়! প্রাচীর ঘেরা শহরের মধ্যে অচ্ছুৎদের থাকার অধিকার ছিল না। কুকুর এবং গবাদি পশুরা শহরের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে পারতো কিন্তু একজন অচ্ছুতের সেই শহরের ভেতরে ঢোকার অধিকার ছিল না। কোনো অচ্ছুৎ মাটিতে থুতু পর্যন্ত ফেলতে পারতো না, পাছে কোনো হিন্দুর পায়ে তার স্পর্শ হয়! তাই থুতু ফেলার জন্য তার গলায় একটা মটকা ঝুলিয়ে দেয়া হত। আর অচ্ছুৎদের কোমরে একটি করে ঝাড়ু বেধে রাখতে হত, যাতে তারা তাদের অপবিত্র পায়ের ছাপ মাটি থেকে মেটাতে মেটাতে চলে। কোনো ব্রাহ্মণ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের মাটিতে তাকে শুয়ে পড়তে হত, যাতে তার ছায়া সেই ব্রাহ্মণের ওপর না পড়ে।

মহারাষ্ট্রের অচ্ছুৎদের হাতে অথবা গলায় কালো দড়ি বেধে রাখতে হত, যাতে তাদের শনাক্ত করা যায়।

গুজরাটের অচ্ছুৎদের মাথায় শিং পড়তে হত শনাক্তকরণ চিহ্ন হিসাবে।

পাঞ্জাবে ঝাড়ুদারদের হাতে অথবা বগলে করে একটা ঝাড়ু নিয়ে চলতে হত, যাতে তারা যে ঝাড়ুদার তা যেন বোঝা যায়।

মুম্বাইতে অচ্ছুৎদের পরিষ্কার এবং ছেঁড়া নয় এমন কাপড় পড়তে দেয়া হত না। এমনকি দোকানদারেরাও অচ্ছুৎদের কাছে কাপড় বিক্রি করার আগে দেখে নিত, যাতে তা ছেঁড়া হয়।

মালাবারে অচ্ছুতদের একতলার উচু ঘর বানাতে দেয়া হত না এবং তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অধিকার ছিল না। তারা ছাতা ব্যবহার করতে পারতো না, জুতো পরতে পারতো না, সোনার গয়না ব্যবহার করতে পারতো না, গোরুর দুধ দোয়াতে পারতো না, এমনকি শহরের সাধারণ ভাষায় কথাও বলতে পারতো না।

দক্ষিণভারতের অচ্ছুতেরা তাদের কোমরের উপরের অংশ আবৃত রাখতে পারতো না, এমনকি মহিলাদের ক্ষেত্রেও তা উন্মুক্ত রাখতে হত।

বম্বে প্রেসিডেন্সিতে স্বর্ণকারের মত জাতিও ভাজ করে ধুতি পড়তে পারতো না এবং অভিবাদন করার জন্য নমস্কার শব্দ উচ্চারণ করতে পারতো না।

মারাঠায় পেশোয়ার শাসনকালে ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য কেউ বেদমন্ত্র উচ্চারণ করতে পারতো না, কিন্তু কারো সেই দুঃসাহস হলে তার জিভ কেটে ফেলা হত । অনেক স্বর্ণকার বেদ মন্ত্র উচ্চারণের মত দুঃসাহস করেছিল। এর ফলে পেশোয়ার আদেশে তাদের জিভ কেটে ফেলা হয়েছিল।

সারা ভারতেই ব্রাহ্মণদের কোনো গুরু দণ্ড দেওয়া হত না, এমনকি তারা খুনও করলেও।

পেশোয়ার সময়ে জাতি অনুযায়ী সকলকে শাস্তি দেওয়া হত এবং অধিকাংশক্ষেত্রেই অচ্ছুৎদের কঠোর শাস্তি ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত।

বাংলাতে জাতি অনুযায়ী জমির কর আদায় করা হত এবং অচ্ছুতকে তা সবচেয়ে অধিক প্রদান করতে হত।[ Manu and The Shudra -B.R. Ambedkar]

Continue reading “মনুর চোখে শূদ্ররা মানুষ নয়-হিন্দু ধর্মে শূদ্রের অবস্থান”
Featured

শিবলিঙ্গের কাহিনীঃ লিঙ্গ মানে কি লিঙ্গ নয়? শাস্ত্রীয় প্রমাণ

নাম লিঙ্গ হলেও জিনিসটি ঠিক লিঙ্গ নয়- এমনই দাবী দাওয়া আজকের হিন্দুদের। শিবলিঙ্গ যে জননাঙ্গের প্রতীক তারা তা মানতে নারাজ, যেহেতু এই আদিম পূজা পদ্ধতির সাথে তাদের বর্তমান মানসিকতা খাপ খায় না। শিবলিঙ্গের জননাঙ্গ হওয়াকেই কেবল অস্বীকার নয়, তার পাশাপাশি অপবিজ্ঞানের সাহায্যে শিবলিঙ্গকে প্রাচীন ভারতের পারমাণবিক চুল্লী, এজাতীয় কিছু প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে তারা। প্রথমেই হিন্দুরা যে কাজটি করে থাকে শিবলিঙ্গ-র ক্ষেত্রে তা হল- লিঙ্গ শব্দটির মানে যে জননাঙ্গ তা অস্বীকার করা। তাদের কথায়, ”বাংলায় লিঙ্গ শব্দের অর্থ, শিশ্ন, পুংজননেন্দ্রিয় প্রভৃতি হলেও, বাংলায় লিঙ্গ মানে জননাঙ্গ বোঝালেও সংস্কৃতে এর অর্থ একেবারেই আলাদা।” সুতরাং সংস্কৃতে ‘লিঙ্গ মানে লিঙ্গ কিনা’ তা-ই আগে বিচার করা যাক, এর জন্য আমরা কিছু সংস্কৃত অভিধানের সাহায্য নেব।

Continue reading “শিবলিঙ্গের কাহিনীঃ লিঙ্গ মানে কি লিঙ্গ নয়? শাস্ত্রীয় প্রমাণ”
Featured

মনুর চোখে নারী-হিন্দু ধর্মে নারীর দুরবস্থা

“বিশ্বের যা কিছু মহান, যা চিরকল্যানকর।

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।”

-কাজী নজরুল ইসলাম

এই মূল্যবোধ আধুনিক কবির থাকলেও ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রবক্তা মনুর কিঞ্চিতও ছিল না। ছিলনা বলেই শূদ্রের পাশাপাশি, সকল বর্ণের নারীরই মানবিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছিলেন মনু। নারীর যে কোনো উঁচুজাতেই সম্মানজনক স্থান নেই, তাই তিনি স্পষ্ট করেছেন। তার রচিত শাস্ত্রের নাম ‘মানব শাস্ত্র’ অথবা ‘মনুসংহিতা’ এবং তার ধর্মের নাম ‘মানব ধর্ম’। বর্তমান মানবিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ বিপরীতে মনুর ‘মানব ধর্ম’ প্রকৃতপক্ষে ছিল  ‘দানব ধর্ম’, শোষণ-বঞ্চনার এক মারণাস্ত্র। মনুকে হিন্দু সমাজের আইন-কানুনের মূল প্রবক্তা বলা যায়।

নারীর

এই মনুসংহিতাতে নারীকে জঘন্যভাবে উপস্থাপন করেছেন মনু, হরণ করেছেন তার সকল মৌলিক মানবিক অধিকার।

Continue reading “মনুর চোখে নারী-হিন্দু ধর্মে নারীর দুরবস্থা”
Featured

রামচন্দ্রের বালী হত্যাঃ রাম ধর্মের অনুসারী নাকি অধর্মের?

কোনো গল্পের চরিত্রগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শতভাগ পরিচ্ছন্ন হয় না, সেরকম হলে হয়তো গল্পই এগোতো না। তাই তো কোনো চরিত্রে প্রকাশ পায় নানান দিক, তার কিছুটা নির্মল হতে পারে, আবার  কিছুটা কুৎসিত। সাহিত্য হিসেবে রামায়ণ এবং গল্পের চরিত্র হিসাবে রামও এর ব্যতিক্রম নন। তার চরিত্রেও ফুটে উঠেছে নানানরকম দিক। অবতার হিসাবে রামের ভালো দিকগুলো বরাবরই প্রচার পেয়ে থাকে। তবে রামায়ণ খুটিয়ে বিচার করলেই  অবতারের আবরণের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে দোষ-গুণ-ত্রুটি যুক্ত একটি সাধারণ মানুষ, একটি সাধারণ গল্পের সাধারণ একটি চরিত্র। কখনোবা গভীর বিশ্লেষণে গল্পের নায়ক হয়ে ওঠে খলনায়ক।

এবারের প্রচেষ্টা হবে দেবতাকে মানুষের সারিতে নামিয়ে আনার, তার ত্রুটিগুলোও তুলে ধরার।’এবারের প্রসঙ্গ রামের বালী বধ’।

Continue reading “রামচন্দ্রের বালী হত্যাঃ রাম ধর্মের অনুসারী নাকি অধর্মের?”
Featured

তপস্যা করার কারণে রামচন্দ্র কর্তৃক নিরপরাধ শূদ্র শম্বুকের হত্যা

জাতিভেদ হিন্দু সমাজ ও ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। সহস্র বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশ জাতিভেদের বিষবাষ্পে দগ্ধ হয়েছে। আজও হয়ে চলেছে নিম্নবর্ণের মানুষদের ওপরে অকথ্য অত্যাচার। কখনো বা গোঁফ রাখার অপরাধে, কখনো বা ঘোড়ায় চড়ার অপরাধে, কখনো বা মন্দিরে প্রবেশের অপরাধে আজো চলছে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের উপর অত্যাচার। এই জাতিভেদের বিভীষিকা এল কোথা থেকে? এর উৎস কি? অনেক হিন্দুই বলে থাকেন, এগুলো মানুষ তৈরি করেছে, ঈশ্বর তৈরি করেনি অথবা এই জাতিভেদ, এসব ধর্মে কোথাও নেই। হিন্দুদের মধ্যে ‘জাতি/ বর্ণ হয় কর্ম গুণে’ এমনও দাবী করতে দেখা যায় আজকাল। এইসব দাবীকারীরা এই বিষয়ে অজ্ঞাত যে, হিন্দুশাস্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জাতিভেদ মিশে আছে। রামায়ণে জাতিপ্রথার জঘন্য প্রকাশ দেখা যায়, যখন রামচন্দ্র নিরীহ শম্বুককে হত্যা করেন। শম্বুকহত্যা শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তিবিশেষের হত্যা নয়, শম্বুক ভারতের আপামর দরিদ্র-শোষিত শ্রমজীবী মানুষদের প্রতিনিধি। শম্বুকের নৃশংস হত্যা শূদ্রদের প্রতি চলে আসা অত্যাচারের ইতিহাস। সেই ইতিহাস মুছবার নয়,ভুলবার নয়।

Continue reading “তপস্যা করার কারণে রামচন্দ্র কর্তৃক নিরপরাধ শূদ্র শম্বুকের হত্যা”

ঋগ্বৈদিক সমাজে নারীর অবস্থান

বেদদ্রষ্টা নারী ঋষি

হিন্দু সমাজে একসময় নারীদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।তাদের উপনয়ন সংস্কার হত না। তাদের মন্ত্রহীন বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু একসময় নারীরাও বেদ রচনা করেছিলেন। প্রখ্যাত ঋষি শৌনক তার বৃহদ্দেবতা গ্রন্থে ২৭ জন নারী ঋষির বর্ণনা দিয়েছেন। শৌনক এই ঋষিকাদের তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। ১) প্রথম শ্রেণীর ঋষিকারা দেবতার স্তুতি করে সুক্ত রচনা করেছিলেন। তারা হলেন ঘোষা, গোধা, বিশ্ববারা, অপালা, উপনিষদ্, নিষদ্, ব্রহ্মজায়া জুহূ, অগস্ত্যসহোদরা এবং অদিতি। ২) দ্বিতীয় শ্রেণিতে আছেন তারা যারা দেবতা, ঋষি ও রাজাদের সাথে কথোপকথনমূলক সুক্তের রচনা করেছিলেন। তারা হলেন ইন্দ্রাণী, ইন্দ্রমাতা, সরমা, রোমশা, উর্বশী, লোপামুদ্রা, নদী, যমী এবং শশ্বতী। ৩) তৃতীয় শ্রেণীর মধ্যে তারা পড়ছেন যারা নিজদের উদ্দেশ্যেই সুক্ত রচনা করেছিলেন। তারা হলেন, শ্রী, লাক্ষা, সার্পরাজ্ঞী, বাক, শ্রদ্ধা, মেধা, দক্ষিণা, রাত্রি ও সূর্যা। বেদের বিখ্যাত ভাষ্যকার সায়ণাচার্য এদের ছাড়াও আরো দুজন নারী ঋষির কথা জানিয়েছেন। তারা শিখণ্ডিনী ও বসুক্রপত্নী।

Continue reading “ঋগ্বৈদিক সমাজে নারীর অবস্থান”

‘ড. মেঘনাদ সাহার নবনীতি’ সমালোচনার উত্তরে

সমালোচনার উত্তর 

অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা ডি. এস সি, এফ. আর. এস

এই সংখ্যার ভারতবর্ষে প্রকাশিত “ডাক্তার মেঘনাদ সাহার নবনীতি” শীর্ষক শ্রীমোহিনীমোহন দত্তের সমালোচনা সম্বন্ধে দুই চারিটী কথা বলিব। উক্ত সমালোচকের সমালোচনার উত্তর দেওয়ার কোন প্রয়োজন আছে মনে হয় না। কারণ যে ব্যক্তি বাস্তবিকই নিদ্রিত তাহাকে জাগান সহজ ব্যাপার, কিন্তু যে লোক ঘুমাইবার ভান করিয়া বাস্তবিক পক্ষে জাগ্ৰত আছে তাহাকে ঠেলিয়া তোলবার চেষ্টা করা বিড়ম্বনা মাত্র। সমালোচক সেই শ্রেণীর লোক। তিনি জাগিয়া থাকিয়া ঘুমাইবার ভান করিয়াছেন। তিনি আমার প্রবন্ধের যে সমস্ত তর্ক উত্থাপন করিয়াছেন তাহার উত্তর আমার প্রবন্ধেই দেওয়া আছে, একটু ধৈৰ্য্যসহকারে পাঠ করিলেই উহা পাইবেন। কোন মন্ত্র উচ্চারণ করিয়া দেবতাকে ডাকিলে সিদ্ধিলাভ হয়— আমার এ বিশ্বাস কদাপি ছিল না, এখনও নাই ; আমার মতে উহা একটি মধ্যযুগীয় কুসংস্কার মাত্র। এখন জিজ্ঞাস্য, যদি “বেদমন্ত্র উচ্চারণ করিলে বহু দেবদেবী বা যাগযজ্ঞ করিলে দেবতা ও ভগবান প্রসন্ন হন, তবে গত দুই শত বৎসর ধরিয়া হিন্দুজাতি বেদ-পুরাণ-হিন্দুর দেবতা প্রভৃতিতে সম্পূর্ণ অবিশ্বাসী, সর্ববিধ ভক্ষ্য-অভক্ষ্য আহারকারী মুষ্টিমেয় বৈদেশিকের দ্বারা নিগৃহীত, পদদলিত ও অশেষ প্রকারে লাঞ্ছিত হইয়া আসিতেছে কেন? ইহার সদুত্তর সমালোচক দিতে পারেন কি ?

Continue reading “‘ড. মেঘনাদ সাহার নবনীতি’ সমালোচনার উত্তরে”

বালির ভিতের উপর কি দাঁড়িয়ে আছে হিন্দু ধর্ম?

অবশেষে চলে এসেছে হিন্দু ধর্মের অজানা দিকগুলো সম্বন্ধে গবেষণাধর্মী পুস্তকঃ ‘বালির ভিতের উপর কি দাঁড়িয়ে আছে হিন্দু ধর্ম?’ আপনাদের সবার শুভকামনায় খুব শীঘ্রই ইবইটির কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। মূল গ্রন্থটি এতদিন একমাত্র হিন্দি ভাষাতেই পাওয়া যাচ্ছিল। অবশেষে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বইটির বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে। বইটি যেদিন প্রথম দেখেছিলাম সেদিনই এর বাংলা অনুবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এমন তথ্যবহুল বই ভারতবর্ষে অত্যন্ত বিরল। এই বইটি লেখকের কয়েক দশকের পরিশ্রমের ফল। এতদিন বাংলা ভাষাতে এমন গ্রন্থের একান্ত অভাব ছিল। বর্তমান ইবইটি সেই অভাব দূরীকরণের প্রচেষ্টার ফসল। বইটি সম্পূর্ণ ফ্রি হওয়ার দরুণ নির্দ্বিধায় বইটি পড়ুন এবং অন্যদের পড়তে উৎসাহিত করুন। পাঠকদের যদি বইটি ভালো লাগে তাহলেই বইটির সাথে যুক্ত সকলের পরিশ্রম সার্থক হবে। বইটি ডাউনলোড করুন নিচের লিংকগুলো থেকেঃ

Continue reading “বালির ভিতের উপর কি দাঁড়িয়ে আছে হিন্দু ধর্ম?”

আকবর ভারতবর্ষ পত্রিকায়

১) আকবর সহমরণের বিরোধী ছিলেন।

২) তার সময়কালে গোমাংস খাওয়া নিষিদ্ধ হয়েছিল। আকবর পেঁয়াজ, রসুন খেতেন না। তার স্ত্রীদের প্রভাবে তিনি এসব খাওয়া বন্ধ করেন।

Continue reading “আকবর ভারতবর্ষ পত্রিকায়”

শঙ্কর দিগ্বিজয় গ্রন্থ

অনেক স্মৃতিশাস্ত্রে বৈদ্যকে (ডাক্তারকে) নিচুজাত বলে অশ্রদ্ধা করা হলেও শঙ্করাচার্য বৈদ্যদের শরীরধারী বিষ্ণুর সাথে তুলনা করেছেন।(শঙ্করবিজয়/ ১৬ অধ্যায়)

শঙ্করাচার্যের মতে সাংখ্য বেদবিরোধী। (শঙ্করবিজয়, ১৫ অধ্যায়)

শাক্তরা ব্রাহ্মণ জাতি হতে বহিষ্কৃত এবং অনার্য। (শঙ্করবিজয়/ ১৫ অধ্যায়)

শঙ্করাচার্যকে এক কাপালিক বলি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বিস্তারিত স্ক্রিনশটে -(শঙ্করবিজয়/১১ অধ্যায়)

শূদ্র হল নীচ(শঙ্করবিজয়,১০ অধ্যায়)

নারীবিদ্বেষী শঙ্করাচার্য- (শঙ্করবিজয়/অষ্টম অধ্যায়)

কুমারিলভট্ট বৌদ্ধদের পরাজিত করার জন্য বৌদ্ধ সেজে বৌদ্ধদের কাছ থেকে বৌদ্ধশাস্ত্র শিখতে থাকেন। একদিন এক তীক্ষ্ণবুদ্ধি বৌদ্ধ বেদকে দূষিত (খণ্ডন?) করলে কুমারিলের চোখ থেকে জল পড়তে থাকে। এই ঘটনা থেকে বৌদ্ধরা বুঝতে পারে কুমারিল বৌদ্ধের ছদ্মবেশ ধারণ করে আছেন মাত্র। তারা কুমারিলকে উঁচু প্রাসাদ থেকে ফেলে দেয়। পড়ার আগে কুমারিল মনে করেন, যদি বেদ প্রমাণ হয়ে থাকে তাহলে কুমারিল মরবেন না। প্রাসাদের উপর থেকে পড়েও কুমারিলের মৃত্যু হয়না। এরপর বৌদ্ধদের কাছ থেকে আহরণ করা বৌদ্ধশাস্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমেই কুমারিল বৌদ্ধদের ধ্বংস করেন। (শঙ্করবিজয়/ ৭ম অধ্যায়)

কুমারিল ভট্টের ঈশ্বর খণ্ডন-(শঙ্করবিজয়/ ৭ম অধ্যায়)

কুমারিল পরমাত্মাকে দাসের মত নিযুক্ত করেছেন।(শঙ্কর বিজয়,৬ষ্ঠ অধ্যায়)

শঙ্কর ও কুৎসিত পাশুপত মতাবলম্বী(শঙ্করবিজয়, ৬ষ্ঠ অধ্যায়)

শঙ্করাচার্য ও চণ্ডাল(শঙ্করবিজয়/ ৬ষ্ঠ অধ্যায়)

বিষ্ণু নয় শিবই রামচন্দ্র রূপে জন্মগ্রহণ করেন।( শঙ্করবিজয়/ ৪র্থ অধ্যায়)

শঙ্করাচার্য কেবল বৌদ্ধবিরোধী ছিলেন না, তিনি পাশুপত, কাপালিক, বৈষ্ণব প্রভৃতি সম্প্রদায়েরও বিরোধী ছিলেন। (শঙ্করবিজয়, ৩য় অধ্যায়)

শঙ্করবিজয় গ্রন্থে চার্বাক মতের উল্লেখ। এই চার্বাকমতের উপর রুষ্ট হয়ে বৃহস্পতিকে অভিশাপ দেওয়া হয়।(শঙ্করবিজয়/৩য় অধ্যায়)

শঙ্করবিজয় গ্রন্থ অনুসারে কুমারিল ভট্ট সমগ্র ভারতবর্ষের বৌদ্ধদের হত্যা করান। (শঙ্করবিজয়, ১ম অধ্যায়)

বৌদ্ধদের তর্কে পরাজিত করার পর কুমারিল ভট্ট ভাবেন, তর্কে জয় পরাজয় তো ব্যক্তির বিদ্যার উপর নির্ভরশীল। তাহলে কার মত আসলে সত্য, তা কিভাবে বোঝা যাবে? তখন কুমারিল ভাবেন, পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়েও যে অক্ষত থাকবে, তার মতই প্রকৃত সত্য বলে প্রমাণিত হবে। এই ভেবে কুমারিল পাহাড় থেকে লাফ দেন, কিন্তু তার কিছুই হয়না। (শঙ্করবিজয়/ ১ম অধ্যায়)

কাপালিকদের নরবলি।(শঙ্করবিজয় ১/৩৭)